আগামীকাল ইন্টার মায়ামি বনাম আল আহলি ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে ২০২৫ ক্লাব বিশ্বকাপ। তবে এই টুর্নামেন্টের বিশেষ আকর্ষণ শুধু মাঠের খেলাতেই সীমাবদ্ধ নয় — এবার প্রথমবারের মতো বড় মঞ্চে চালু হচ্ছে ফিফার নতুন উন্নত অফসাইড প্রযুক্তি ও রেফারিদের বডি-ক্যামেরা। খেলার গতি বাড়ানো ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।
দ্রুত, নিখুঁত এবং স্মার্ট অফসাইড সিদ্ধান্ত
বিশ্বখ্যাত রেফারি এবং ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা জানিয়েছেন, এই নতুন প্রযুক্তি অফসাইড সিদ্ধান্ত নিতে সময় কমাবে এবং তা হবে আরও নিখুঁত। মাঠজুড়ে ১৬টি ট্র্যাকিং ক্যামেরা ও উন্নত এআই সিস্টেম বল স্পর্শের মুহূর্তেই রেফারির কানে সরাসরি সিগন্যাল পাঠাবে — “অফসাইড, অফসাইড”। তবে পার্থক্য ১০ সেন্টিমিটারের বেশি হলে তবেই এ সিগন্যাল যাবে। এতে খেলার গতি কমবে না এবং সিদ্ধান্ত নিতে দেরিও হবে না।
চোটের ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ
কলিনা জানান, “অনেক সময় খেলোয়াড়েরা ৪০-৫০ মিটার দৌড়ানোর পর খেলা অফসাইড বলে বাতিল হয়। এতে অপ্রয়োজনীয় চোটের ঝুঁকি বাড়ে। এই প্রযুক্তি সেই সমস্যার সমাধান দেবে।”
লাইন্সম্যানদের বেশি সাহসী হওয়ার আহ্বান
প্রযুক্তির পাশাপাশি লাইন্সম্যানদেরও আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন কলিনা। সহজ অফসাইড পরিস্থিতিতে প্রযুক্তির ওপর পুরোপুরি ভরসা না করে নিজের অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রেফারিদের বডি-ক্যামেরা: মাঠের ভেতর সরাসরি অভিজ্ঞতা
নতুন আরেক সংযোজন হলো রেফারিদের শরীরে বডি-ক্যামেরা। এর মাধ্যমে মাঠের ভেতরের সিদ্ধান্ত, বিতর্ক ও খেলোয়াড়দের আচরণ সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যাবে। খেলার ভেতরের আবহ এবং সিদ্ধান্তের মুহূর্তগুলো দর্শকদের আরও বাস্তব অভিজ্ঞতা দেবে।
প্রযুক্তির পেছনের দল
ফিফার প্রযুক্তি প্রধান ইওহানেস হোলৎসমুলার জানান, “প্রতি ম্যাচে লাখ লাখ ডেটা পয়েন্ট বিশ্লেষণ করবে এই সিস্টেম। এটি শুধু রেফারি ও দল নয়, দর্শকদের জন্যও ফুটবল দেখার অভিজ্ঞতা বদলে দেবে।”
এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে যুব টুর্নামেন্টে সাফল্যের সঙ্গে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হলেও এবার প্রথমবারের মতো ক্লাব বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে এটি চালু হচ্ছে।
সারাংশ
খেলার গতিশীলতা, সঠিক সিদ্ধান্ত এবং খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ক্লাব বিশ্বকাপে অভিষেক হচ্ছে ফিফার নতুন অফসাইড প্রযুক্তির। একই সঙ্গে বডি-ক্যামেরা যুক্ত হচ্ছে রেফারিদের সঙ্গে। প্রযুক্তির এই যুগান্তকারী সংযোজন বিশ্ব ফুটবলের অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছে ফিফা ও ফুটবলপ্রেমীরা।


