গুলশানে সাবেক এক সংসদ সদস্যের বাসায় চাঁদাবাজির ঘটনায় নিজের নাম আসায় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেছেন, এ অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাঁর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ নেই।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাঝে মাঝে রাতে দেরি পর্যন্ত কাজ শেষ হয়, তখন বাসায় খাবার না থাকায় তিনি প্রায়ই ৩০০ ফুটের নীলা মার্কেটে হাঁসের মাংস খেতে যান। যদি বেশি ভোর হয়ে যায় এবং নীলা মার্কেট বন্ধ থাকে, তখন গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে যান।
বহিষ্কৃত গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ নেতা জানে আলম অপুর ভিডিও বার্তায় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ওই দিন তিনি গুলশান এলাকায় গিয়েছিলেন কি না, তা তাঁর মনে নেই। সিসিটিভি ফুটেজে হেলমেট পরা ব্যক্তিকে তাঁর সঙ্গে মেলানো প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “হেলমেট পরা যে কাউকে যদি আমাকে বলে দাবি করা হয়, তা কতটা বিশ্বাসযোগ্য?”
উপদেষ্টা দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং এখনো কেউ প্রমাণ দিতে পারেনি। বরং অভিযুক্ত জানে আলমের সাক্ষাৎকার নেওয়ার বিষয়টি একজন রাজনৈতিক নেতার বাসায় জোরপূর্বক হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা তাঁর মতে “বিশ্বাসযোগ্য এবং গুরুতর”।
এদিকে, আজ শাহবাগে এক সংবাদ সম্মেলনে জানে আলমের স্ত্রী আনিসা অভিযোগ করেন, ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টা থেকে পরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত তাঁর স্বামীকে বন্দী রেখে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। তিনি দাবি করেন, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের গোপীবাগের বাসায় অপুকে নিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩৫ মিনিটের এক ভিডিওতে জানে আলম অপু নিজেকে গুলশানের চাঁদাবাজি ঘটনায় টাকার ব্যাগ নেওয়া ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, গত বছর যে সমন্বয়ক মহানায়ক ছিলেন, এবার তাঁরাই চাঁদাবাজিতে জড়িত।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।


