বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও অনিশ্চয়তা চলছিল। বিশেষ করে নির্বাচন কবে হবে — এই বিষয়টি নিয়ে সরকার ও বিএনপির অবস্থান ছিল ভিন্ন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে। কিন্তু বিএনপি ও আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল এই সিদ্ধান্তে অসম্মতি জানিয়ে আসছিল।
এই পরিস্থিতিতে গতকাল লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে অধ্যাপক ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয় — সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এতে দেশের রাজনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ও সংকট নিরসনের ইঙ্গিত দেখা দিলেও, জামায়াতে ইসলামি, ইসলামী আন্দোলন এবং এনসিপি-সহ কয়েকটি দল এ সমঝোতায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। তাদের মতে, একটি দলের সঙ্গে এভাবে যৌথ ঘোষণা দেওয়া নৈতিকতা ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ।
এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়, আগে জুলাই ঘোষণাপত্র ও মৌলিক সংস্কার কার্যকর করা প্রয়োজন, তারপর নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।
এদিকে, অধ্যাপক আসিফ নজরুলের মতে, এই বৈঠক জাতিকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। ইউনূস এবং তারেক রহমান উভয়েই পরিপক্ব নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন।


