রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হলো ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহ ছামীমের (১৩)। মৃত্যুর আগে মাকে অসহায় কণ্ঠে ছামীম বলেছিল, ‘মা, শ্বাস নিতে পারছি না। হাসপাতালে পৌঁছাতে আর কতক্ষণ লাগবে? আমাকে বিদেশ নিয়ে যাও।’
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ছামীমের পুরো শরীর দগ্ধ হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার ভোরে মরদেহ নিজ গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সকাল ৯টায় বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
বাবা হারা ছেলের শেষ যাত্রা
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার মাঝিকান্দি গ্রামে জন্ম নেয়া ছামীম ছিলেন দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট। মাত্র সাত মাস আগে সৌদি আরবে মারা যান তার বাবা আবুল কালাম মাঝি। পরিবারের শোক কাটতে না কাটতেই আরেক মর্মান্তিক ঘটনায় ছেলের মৃত্যুসংবাদে ভেঙে পড়েছেন মা জুলেখা বেগম।
ছামীমের মামা সাইফুল ইসলাম জানান, “সকালে নিজের গাড়িতেই ছামীমকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। ছুটির ঠিক আগ মুহূর্তে ঘটে যায় এই দুর্ঘটনা। রাত ১১টায় হাসপাতাল থেকে তার মৃত্যুর খবর পাই। ভগ্নীপতির কবরের পাশেই ভাগিনাকে শায়িত করতে হলো।”
মায়ের বেদনাময় স্মৃতি
ছেলের শেষ মুহূর্তের কথা স্মরণ করে জুলেখা বেগম বলেন, “স্কুল থেকে ফোন পেয়ে আমি দৌড়ে যাই। তখন ছামীম চিৎকার করছিল, মা এসি চালাও, গরমে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সে এসি ছিল না। সে বারবার বলছিল, মা আর কতক্ষণ লাগবে হাসপাতালে পৌঁছাতে? হাসপাতাল এত দূরে কেন? পানি চাইছিল, কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শে পানি দিতেও পারিনি। আমার সন্তানটা কষ্টে শেষ নিঃশ্বাস নিয়েছে।”
দুর্ঘটনার পটভূমি
সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বিধ্বস্ত হয়। দগ্ধ ছামীমসহ অনেক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
পরিবারের দাবি
মামা সাইফুল ইসলাম বলেন, “জনবহুল এলাকায় যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ কতটা নিরাপদ? আমাদের ভাগিনার প্রাণ হারানোর পর আমরা চাই, এমন ঘটনা আর না ঘটুক। এই ব্যথা কোনও পরিবার যেন না পায়।”


