ঢাকা, শনিবার │ আওয়ামী লীগ আমলের গুমের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আওতায় থাকা ২৫ সেনা কর্মকর্তার মধ্যে ১৫ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাসদর। সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান আজ শনিবার বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের মেস আলফাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, “গুম মামলায় ২৫ জন সেনা সদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৯ জন অবসরে, ১ জন এলপিআরে, আর বাকী ১৫ জন বর্তমানে চাকরিতে রয়েছেন। ৮ অক্টোবর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর এলপিআর ও কর্মরত সদস্যদের সেনাসদরে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। ৯ অক্টোবরের মধ্যে সবাই হাজির হয়েছেন, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ছাড়া।”
তিনি জানান, কবীর আহাম্মদ ৯ অক্টোবর সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। “তাকে খুঁজে বের করার জন্য ডিজিএফআই, এনএসআই ও বিজিবিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি দেশত্যাগ করতে না পারেন,” বলেন সেনা কর্মকর্তা।
এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সংবিধান স্বীকৃত সকল আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। হেফাজতে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত বুধবার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংঘটিত গুমের ঘটনাসংক্রান্ত দুটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে ২৫ জনই সেনাবাহিনীর বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, পরোয়ানাগুলো একই দিন সংশ্লিষ্ট ১৩টি সরকারি দপ্তরে পাঠানো হয়। তবে আজকের সংবাদ সম্মেলনে মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান জানান, সেনাসদর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরোয়ানা হাতে পায়নি, তবু তারা অভ্যন্তরীণভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
সেনা কর্মকর্তাদের হেফাজতে নেওয়া এবং একজনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় রাজধানীর কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক নজর রয়েছে।


