রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের আগে ভুক্তভোগীর মতামত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা এবং বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ বিষয়ে দেশের ৩০টি রাজনৈতিক দল ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দফার নবম দিনের আলোচনা শেষে বুধবার (৩ জুলাই) সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলনসহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দল আলোচনায় অংশ নেয়।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমা: সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে নতুন ব্যাখ্যার প্রস্তাব
অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির যেকোনো দণ্ড ক্ষমা বা হ্রাস করার অধিকার থাকবে, তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আবেদন গ্রহণের আগে “ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তার বৈধ উত্তরাধিকারের মতামত গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে”—এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ও একপাক্ষিক সিদ্ধান্তের অভিযোগ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণে ঐক্যমত্য
আলোচনায় বিচার বিভাগের কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে সুস্পষ্ট ঐকমত্য দেখা গেছে। অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, “রাজধানীতে সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী আসন থাকবে, তবে রাজধানীর বাইরে প্রতিটি বিভাগে প্রধান বিচারপতি কর্তৃক নির্ধারিত এক বা একাধিক বেঞ্চ থাকবে।”
এটি অর্থাৎ, হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহসহ প্রতিটি বিভাগীয় শহরে স্থাপন করা হবে। এতে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের দূর্ভোগ কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আলোচনার অংশগ্রহণকারীরা।
জরুরি অবস্থার আলোচনা হয়নি, নতুন প্রস্তাবনার প্রয়োজন
আজকের আলোচনায় জরুরি অবস্থা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও, কমিশনের এনসিসিভিত্তিক (ন্যাশনাল কনসেনসাস কমিশন) প্রস্তাবনা অসম্পূর্ণ থাকায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। অধ্যাপক রীয়াজ জানান, “জরুরি অবস্থা বিষয়ে নতুন করে প্রস্তাবনা তৈরি করে আলোচনা করতে হবে।”
রাজনৈতিক ঐক্যের পথে আরেক ধাপ অগ্রগতি
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এই আলোচনাকে রাজনৈতিক সংস্কারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন মতাদর্শ ও আদর্শিক অবস্থানের দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ইস্যুতে একমত হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
আলোচনার এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্কারে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা।


