মরক্কোর রিফ পর্বতমালার কোলে জেবেল জারহুন পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত মাউলায় ইদ্রিস শহর। ইতিহাস, ধর্মীয় মর্যাদা এবং রঙিন ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিশেল এই শহর। কড়া বিধিনিষেধে বহু বছর outsiders-এর জন্য বন্ধ থাকা এ শহর ধীরে ধীরে খুলছে পর্যটকদের জন্য, তবুও ভিড়মুক্ত এবং স্বতঃস্ফূর্ত এক অভিজ্ঞতা দিতে এখনো সক্ষম।
এ শহরের পবিত্রতা ও মর্যাদার উৎস ইসলামি ঐতিহ্যের প্রতিষ্ঠাতা ইদ্রিস-I। ৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে ব্যর্থ বিদ্রোহের পর ভলুবিলিসের প্রাচীন আমাজিঘ-রোমান ধ্বংসাবশেষে আশ্রয় নিয়ে ইসলাম প্রচার শুরু করেন তিনি। ৭৯১ সালে মৃত্যুর পর এখানকার বাসিন্দারা তাঁর কবরের চারপাশে গড়ে তোলে শহরটি। একসময় এ শহর পাঁচবার ভ্রমণ করলে মক্কা হজের সমতুল্য ধরা হতো।
শহরের বৈশিষ্ট্য:
- পুরো শহর জুড়ে ছড়িয়ে আছে সি-গ্রিন, মিন্ট, লেমন, রোজ, এমেরাল্ড আর সাদা রঙের দেয়াল।
- ১৯১২ সাল পর্যন্ত অমুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল, ২০০৫ সালে রাত্রিযাপন অনুমোদন করা হয়।
- ধর্মীয় স্থান ও ইদ্রিস-I এর সমাধি এখনো শুধু মুসলিমদের জন্য উন্মুক্ত।
বিশেষ দর্শনীয় স্থান:
- আল-সান্তিসি মসজিদের মিনার — মরক্কোতে একমাত্র গোলাকার মিনার, নির্মিত ১৯৩৯ সালে।
- ভলুবিলিস ধ্বংসাবশেষ — রোমান আমলের থাম, ঘরবাড়ি, পাবলিক বাথ ও মজার মোজাইক।
- লা গ্রান্ড টেরেস — শহরের সেরা দৃশ্যপট যেখানে সূর্যাস্তের সময় সোনালী আলোয় রাঙানো শহর এক অসাধারণ দৃশ্য।
প্রথাগত জীবনধারা:
- গলি ও অলিগলিতে বেড়ানো বিড়াল এবং ডঙ্কি (গাধা) এখনো স্থানীয়দের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত।
- স্থানীয়রা এখনো ওলিভ হারভেস্ট, বাজারের মালামাল টানা এবং দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য গাধার ওপর নির্ভর করেন।
মাঠঘেরা শহরের খাবার-সংস্কৃতি:
- স্থানীয় হাট-বাজারে পাওয়া যায় মরক্কান কেফতা, ভুট্টা, তাজা পিচ, মুলবেরি ও প্লাম।
- আগস্ট মাসে মাউলায় ইদ্রিস উৎসব — হাজারো মুসলিম ভক্তের আগমনে শহর ভরে ওঠে গানে, দোয়ায় আর প্রার্থনায়।
আধুনিকতার ছোঁয়া:
- দ্রুতগতির রেলপথের উন্নয়নের ফলে মেকনেস শহর হয়ে মাউলায় ইদ্রিসে ভ্রমণ আরও সহজ হবে।
- পর্যটকদের স্বাগত জানাতে স্থানীয় গেস্টহাউস ও পথপ্রদর্শকরা আগ্রহী।
এই শহর যেন মরক্কোর অদেখা আত্মা, যেখানে ধীর গতির জীবন ও আন্তরিক আতিথেয়তার মেলবন্ধন। পর্যটনের কৃত্রিমতা ছাড়িয়ে বাস্তব জীবন আর সংস্কৃতির অরিজিনাল স্বাদ নিতে চাইলে মাউলায় ইদ্রিসের রঙিন গলি ও ধর্মীয় আবহে ডুবে যেতে হবে।
“লাইফ-সি” না করে শুধু “সাইট-সি” করলে এই শহর আপনাকে ছাড়বে না।”


