জাতিসংঘ সমর্থিত বৈশ্বিক ক্ষুধা পর্যবেক্ষক সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (IPC) জানিয়েছে, গাজায় দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে এবং তা আগামী এক মাসে আরও বিস্তৃত হবে। সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ ১৪ হাজার ফিলিস্তিনি দুর্ভিক্ষে ভুগছেন, যা সেপ্টেম্বরের শেষে বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৬ লাখ ৪১ হাজারে।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, এর মধ্যে ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ গাজা সিটি ও আশপাশের এলাকায় বসবাস করছেন, যেখানে ইতোমধ্যেই দুর্ভিক্ষের শর্ত পূরণ হয়েছে। বাকি মানুষ ডেইর আল-বালাহ ও খান ইউনিসে বসবাস করেন, যেখানে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুর্ভিক্ষ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এটি গত ১৪ বছরে পঞ্চমবারের মতো আইপিসি কোনো অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ চিহ্নিত করল। এর আগে সোমালিয়া (২০১১), দক্ষিণ সুদান (২০১৭ ও ২০২০) এবং সুদানে (২০২৪) দুর্ভিক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ইসরায়েলের দাবি ও বিরোধিতা
ইসরায়েল এই প্রতিবেদনকে “মিথ্যা ও পক্ষপাতদুষ্ট” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। গাজায় সহায়তা সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগাট (COGAT) অভিযোগ করে, আইপিসি তাদের জরিপে হামাসের দেওয়া আংশিক তথ্যের ওপর নির্ভর করেছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ানো খাদ্য সহায়তার তথ্য উপেক্ষা করেছে।
কোগাট এক বিবৃতিতে জানায়, “গাজা উপত্যকায় দুর্ভিক্ষ নেই। বিশেষ করে গাজা সিটিকে দুর্ভিক্ষপীড়িত ঘোষণা করা সম্পূর্ণ অপেশাদারিত্ব।”
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, গাজার দুর্ভিক্ষ ইসরায়েল সরকারের কর্মকাণ্ডের সরাসরি ফল। তিনি সতর্ক করেন, “অনাহারে মৃত্যুগুলো যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।”
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস আগেই গাজায় “অতুলনীয় মানবিক বিপর্যয়ের” আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের অনেক দেশ জানিয়েছে, যুদ্ধ দুই বছর পার করতে না করতেই মানবিক সংকট অকল্পনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৫% মার্কিন নাগরিক মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত গাজার ক্ষুধার্ত মানুষদের সহায়তা করা। বিশ্লেষকদের মতে, এই জনমত ইসরায়েলের জন্য অস্বস্তিকর বার্তা বহন করছে, যেহেতু দেশটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়। এর পর থেকে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গাজায় ৬২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দাবি করছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসর বর্তমানে যুদ্ধবিরতির জন্য মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে।


