ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া আলোচিত সিনেমা ‘এশা মার্ডার: কর্মফল’ দিয়ে নতুন করে দর্শক-সমালোচকদের আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী বাঁধন। খুনের রহস্যঘেরা এই সিনেমার গল্প ও চরিত্রের ভিন্নতা দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ভালোবাসা আর প্রতিক্রিয়া দেখতে ছুটে চলেছেন বাঁধন নিজেই। এক প্রচারণায় গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কান্নায় ভেঙেও পড়েন তিনি।
প্রথম দিন দর্শক কম থাকায় হতাশ হলেও দিনে দিনে হলভর্তি দর্শক দেখে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বাঁধন। তিনি বলেন, “প্রথমে ভেবেছিলাম, দর্শক হয়তো নায়কবিহীন সিনেমা দেখতে আগ্রহী নয়। কিন্তু দর্শক প্রমাণ করেছে, তারা ভিন্নধর্মী গল্পের সিনেমা দেখতে প্রস্তুত।”
এ সিনেমায় নারীকেন্দ্রিক শক্তিশালী চরিত্র আর গল্পের জন্য শুধু নারীরাই নয়, পুরুষ দর্শকরাও প্রশংসা করছেন। বাঁধন জানান, তার নিজের বাসার দুই সহকারীও সিনেমা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদেছেন।
সিনেমাটি শুধু মাল্টিপ্লেক্স নয়, দেশের সিঙ্গেল স্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহেও মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান বাঁধন। তিনি বলেন, “একটা ঝুঁকি নিন। সব সময় একই ধরনের সিনেমা চালাবেন না। নতুন গল্প, সাহসী নির্মাণও দর্শক গ্রহণ করছে। আমাদের সিনেমা সেটাই প্রমাণ করছে।”
বাঁধন মনে করেন, সমাজ বদলাতে নারী-পুরুষকে পাশাপাশি হাঁটতে হবে। তিনি বলেন, “এ ধরনের গল্প শুধু বিনোদন নয়, সামাজিক বার্তাও দেয়। এমন আরও সিনেমা হলে সমাজ বদলাবে। নারীরাও বড় পর্দায় নেতৃত্বে আসবে।”
বাঁধন বলেন, “নায়কদের নামের পাশে এখন যখন লেখা হয় বাঁধনের সিনেমা আসছে, এটা আমার জীবনের বড় অর্জন। এই জায়গা আমি কষ্ট করে তৈরি করেছি। দর্শকের ভালোবাসা আমাকে পথ দেখায়।”
‘এশা মার্ডার: কর্মফল’ সিনেমা দেখিয়ে দিয়েছে, সাহসী গল্প ও ভিন্নধর্মী নির্মাণের প্রতি দর্শকের আগ্রহ বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলা সিনেমার বাজারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


