ফরিদপুরে চাঞ্চল্যকর ইজিবাইক চালক শওকত মোল্লা হত্যা মামলায় পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুর ১টায় ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (১ম আদালত) মাকসুদুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় পাঁচ আসামি আদালতে উপস্থিত থাকলেও একজন পলাতক রয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের পেছনের ঘটনা
২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকা থেকে ইজিবাইক ভাড়া করে শওকত মোল্লাকে নিয়ে বের হয় আসামিরা। ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে একপর্যায়ে তাকে বাইপাস এলাকার ধানখেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই গলায় ফাঁস দিয়ে শওকতকে হত্যা করে তার ইজিবাইকটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা।
পরদিন সকালে স্থানীয়রা ধানক্ষেতে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া
ঘটনার পর নিহতের বাবা আয়নাল শেখ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করে।
রায় অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্তরা
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—
১. মেহেদী হাসান (পশ্চিম খাবাসপুর)
২. মো. জনি মোল্যা (পশ্চিম খাবাসপুর)
৩. রাসেল শেখ (পশ্চিম খাবাসপুর, পলাতক)
৪. রাজেস রবি দাস (ওয়্যারলেস পাড়া)
৫. রবিন মোল্যা (গোয়ালচামট)
তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন—
৬. বাদশা শেখ, পিতা: মুরাদ শেখ, মজলিশপুর, রাজবাড়ী।
তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১০ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিক্রিয়া
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাডভোকেট চৌধুরী জাহিদ হাসান খোকন বলেন, “আসামিরা আদালতের কাছে স্বীকার করেছে যে তারা শওকতকে হত্যা করে ইজিবাইকটি বিক্রি করেছে। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে আমরা মনে করি।”
এই রায়ে নিহত শওকতের পরিবার ও স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় কার্যকর হবে এবং পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনা হবে।


