জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। পশ্চিমা দেশগুলোর সাম্প্রতিক পদক্ষেপে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এটি এক স্পষ্ট বার্তা—ইহুদি হত্যা করলে পুরস্কার মেলে।”
ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ একাধিক পশ্চিমা দেশ সম্প্রতি নিঃশর্তভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু বলেন, “হামাসের ৭ অক্টোবরের ভয়াবহ হামলার পর যখন ফিলিস্তিনি জনগণের প্রায় ৯০ শতাংশ সেদিন তা সমর্থন করেছিল, তখনই এই স্বীকৃতি দেওয়া হলো। এটি ইতিহাসে কলঙ্কের দাগ।”
নেতানিয়াহু বক্তব্য শুরু করার আগেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কক্ষে বহু প্রতিনিধি ও কূটনীতিক বের হয়ে যান। তবে হলের একাংশ থেকে তাকে দাঁড়িয়ে করতালিতে স্বাগত জানানো হয়। একই সময়ে নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে হাজারো প্রো-ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, অনেক দেশ গণমাধ্যমের চাপ, ইসলামী চরমপন্থীদের প্রভাব এবং “ইহুদি বিদ্বেষী জনতার” কাছে নতি স্বীকার করেছে। যদিও তিনি দাবি করেন, ব্যক্তিগতভাবে অনেক বিশ্বনেতাই ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তাকে মূল্যায়ন করেন।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে “মিথ্যা ও আত্মবিরোধী” আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি গাজায় গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধকে আড়াল করার এক মরিয়া চেষ্টা। গাজা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ইতিমধ্যেই ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে সমগ্র অঞ্চল।
এদিকে, আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন জাতিসংঘে ইসরায়েলের কার্যক্রমকে “আন্তর্জাতিক আইন ও মানবতার নিয়ম ভঙ্গের নগ্ন উদাহরণ” বলে আখ্যা দেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতিমধ্যেই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, যদিও ইসরায়েল আদালতের এখতিয়ার মানে না।
নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে গাজার জিম্মিদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা তোমাদের এক সেকেন্ডের জন্যও ভুলিনি।” তিনি দাবি করেন, হামাসের শেষ অবশিষ্ট সদস্যরা গাজা শহরে অবস্থান করছে এবং “চূড়ান্তভাবে” তাদের নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই জিম্মি মুক্তি ও যুদ্ধবিরতির চুক্তি হতে পারে। তবে তিনি ইসরায়েলের পশ্চিম তীর দখল পরিকল্পনার বিরোধিতা করে জানান, “এটি কোনোভাবেই ঘটতে দেওয়া হবে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে একের পর এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ইসরায়েলকে ক্রমশ কূটনৈতিকভাবে একঘরে করে দিচ্ছে। তবে জাতিসংঘে পূর্ণ সদস্যপদ পেতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন প্রয়োজন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।


