ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউরোপের এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো রাশিয়াকে থামানো এবং তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তা শান্তির কাজে ব্যবহার করা। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কিতে অনুষ্ঠিত হেলসিংকি+৫০ সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।
জেলেনস্কি বলেন, “রাশিয়া যুদ্ধ শুরু করেছে—তাদের থামাতে হবে। এখন সময় এসেছে শুধু তাদের সম্পদ ফ্রিজ করে রাখা নয়, তা বাজেয়াপ্ত করার। যুদ্ধের জন্য নয়, এই সম্পদ ব্যবহার করতে হবে শান্তি প্রতিষ্ঠায়।”
ইউরোপের নিরাপত্তার প্রশ্নে জোর তাগিদ
জেলেনস্কি হুঁশিয়ার করে বলেন, “রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ইউরোপ দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ থাকবে না। যুদ্ধ শেষ হলেও মস্কো প্রতিবেশী দেশগুলোকে অস্থির করে রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, “ইউরোপের এখন প্রধান কাজ রাশিয়াকে থামানো এবং নিরাপত্তা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও সামাজিক উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করা।”
হেলসিংকি+৫০: ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৯৭৫ সালের হেলসিংকি ফাইনাল অ্যাক্ট–এর ৫০ বছর পূর্তিতে আয়োজিত হয় হেলসিংকি+৫০ সম্মেলন। স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালে এই চুক্তি পূর্ব ও পশ্চিমা ব্লকের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন, নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
ফিনল্যান্ড আয়োজিত এবারের সম্মেলনে ইউরোপের নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে রাশিয়ার ভূমিকা, ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
জেলেনস্কির এই বক্তব্য ইউরোপীয় নেতৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে, যেখানে তিনি কেবল সামরিক নয়, অর্থনৈতিক প্রতিরোধের দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


