জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ এবং জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী নেতারা জানিয়েছেন, এ দুটি দলিলের সাংবিধানিক স্বীকৃতি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিই যথেষ্ট। দলটির স্থায়ী কমিটি মনে করে, সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হলে ভবিষ্যতে অন্য গণ-অভ্যুত্থানগুলো নিয়েও সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি উঠতে পারে, যা অযথা জটিলতা সৃষ্টি করবে।
গত সোমবার রাত ৮টা থেকে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক রাত পৌনে ১২টা পর্যন্ত চলে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। বৈঠকে জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্রের চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, “খসড়ার সঙ্গে আমরা মোটামুটি একমত। কিছু শব্দ ও বাক্যগঠনের বিষয় আছে, সেগুলো নিয়ে কমিশনকে জানানো হবে।”
বিএনপির অবস্থান
বিএনপির নেতারা বলছেন, জুলাই সনদকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হলে ভবিষ্যতে অন্য স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের ক্ষেত্রেও একই দাবি উঠতে পারে। এটি অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করবে। বিএনপির এক স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, “একটা বিপ্লবকে সংবিধানে সংযোজন করার প্রয়োজন নেই। রাজনৈতিক দলিল হিসেবে রাষ্ট্রীয় আর্কাইভে সংরক্ষণই যথেষ্ট।”
খসড়ার দফা নিয়ে মতবিরোধ
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পাঠানো খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সংবিধানে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। এছাড়া খসড়ায় বলা হয়েছে, এই সনদ গৃহীত হলে প্রস্তাবিত সংস্কার ও সুপারিশ দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিএনপি এসব সংস্কার বাস্তবায়নের ব্যাপারে একমত হলেও সাংবিধানিক স্বীকৃতির ধারা নিয়ে তাদের দ্বিমত রয়েছে।
জুলাই ঘোষণাপত্রের অবস্থান
ঘোষণাপত্রের বিষয়ে বিএনপির ধারণা হলো, সাংবিধানিক স্বীকৃতি না দিয়ে রাষ্ট্রীয় নথিতে এর গুরুত্ব সংরক্ষণ করা উচিত। ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়টি যুক্ত করা এবং কিছু ভাষাগত সংশোধন এনে দলটি তাদের চূড়ান্ত মতামত দিয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বিএনপি জানিয়েছে, জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে তারা আর নতুন কোনো আলোচনা করবে না। তবে জুলাই সনদের খসড়া নিয়ে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।


