মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এক ঐতিহাসিক রাত কাটাল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১৫.৩ ওভারেই ৭ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। এই জয়ে বাংলাদেশ ৩ ম্যাচের সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।
পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বশেষ জয়ের স্মৃতি ছিল ২০১৬ সালের এশিয়া কাপে। নয় বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা ভেঙে এবার সেই পাকিস্তানকেই দাপুটে ব্যাটিং-বোলিংয়ে উড়িয়ে দিল টাইগাররা।
তাসকিন–মোস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিং
টসে জিতে ফিল্ডিং নেয় বাংলাদেশ। শুরু থেকেই গতি ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তানি ব্যাটারদের চাপে রাখেন তাসকিন আহমেদ এবং মোস্তাফিজুর রহমান।
- তাসকিন ৩ উইকেট তুলে নেন মাত্র ২২ রান খরচায়।
- মোস্তাফিজুর রহমানের নামের পাশে রেকর্ড: ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট, যা মিরপুরে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সবচেয়ে কিপটে বোলিং ফিগার।
অন্যদিকে তানজিম হাসান ১/২০ এবং শেখ মেহেদী ১/৩৭ শিকার করেন। পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে ১৯.৩ ওভারে মাত্র ১১০ রানে। দলের পক্ষে একমাত্র উজ্জ্বল ছিলেন ফখর জামান (৪৪), আব্বাস আফ্রিদি (২২) ও খুশদিল শাহ (১৭)।
পারভেজ-হৃদয়ের ব্যাটিং ঝড়
মাত্র ৭ রানে দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও লিটন দাস আউট হয়ে গেলে একসময় উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওহিদ হৃদয়ের ৭৩ রানের জুটি ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেয়।
- হৃদয় করেন ৩৭ বলে ৩৬ রান।
- অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন পারভেজ হোসেন (৩৯ বলে), যা তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসগুলোর একটি।
১৬তম ওভারের প্রথম বলেই জাকের আলীর বাউন্ডারিতে জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে দাপুটে জয়
পাকিস্তানের বিপক্ষে এমন একতরফা জয় বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে বিরল। ১০ বছর পর মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় এসেছে এতটাই আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ১৯.৩ ওভারে ১১০ (ফখর ৪৪, আব্বাস ২২, খুশদিল ১৭; তাসকিন ৩/২২, মোস্তাফিজ ২/৬)।
বাংলাদেশ: ১৫.৩ ওভারে ১১২/৩ (পারভেজ ৫৬*, হৃদয় ৩৬; মির্জা ২/২৩, আব্বাস ১/১৬)।
ফলাফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: পারভেজ হোসেন ইমন।


