টানা ব্যর্থতার চাপ, প্রশ্নবিদ্ধ নেতৃত্ব, প্রথম ম্যাচে হার—সবকিছু পেছনে ফেলে দারুণ প্রত্যাবর্তন করেছে বাংলাদেশ। ডাম্বুলায় দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১৭৭ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোরের পর দুর্দান্ত বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে ৮৩ রানে হারিয়ে সিরিজে ১–১ সমতা আনল টাইগাররা।
এই জয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার মাটিতে বাংলাদেশ নিজেদের ৪র্থ এবং সর্বমোট ৭ম টি-টোয়েন্টি জয় তুলে নেয়। এখন পুরো সিরিজ নির্ধারিত হবে ১৬ জুলাই কলম্বোর প্রেমাদাসায় অনুষ্ঠিতব্য তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে।
লিটনের ঝড়ো ইনিংস, শামীমের বিস্ফোরক ব্যাটিং
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল ভীতিকর। প্রথম দুই ওভারে দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন দ্রুত বিদায় নিলে স্কোর দাঁড়ায় ৭/২। তবে অধিনায়ক লিটন দাস (৫০ বলে ৭৬ রান, ৫ ছক্কা) ও তাওহিদ হৃদয় (৩১ রান) তৃতীয় উইকেটে ৬৯ রানের জুটি গড়েন।
এরপর শামীম হোসেন চৌধুরী খেলেন ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস। ২৭ বলে ৪৮ রান, ২ ছক্কা ও ৩ চার—তাঁর ব্যাটেই শেষদিকে রান বাড়ে। লিটনের সঙ্গে তাঁর ৭৭ রানের জুটি মাত্র ৬.৩ ওভারে গড়ে তোলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২০ ওভারে সংগ্রহ করে ১৭৭/৭।
রিশাদ-শরীফুলদের আগুনে বোলিং
১৭৭ রানের পুঁজি নিয়েও জয় নিশ্চিত ছিল না। কারণ উইকেট ছিল ব্যাটিং সহায়ক এবং প্রতিপক্ষ দলে ছিলেন পাতুম নিশাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিসের মতো হার্ডহিটাররা। কিন্তু বাংলাদেশি বোলাররা শুরু থেকেই লাইন-লেন্থ মেনে দুর্দান্ত বল করেন।
- রিশাদ হোসেন: ৩/১৮ (লেগ স্পিন)
- শরীফুল ইসলাম: ২/১২
- সাইফুদ্দিন: ২/২১
- মোস্তাফিজ: ১/১৪
- মেহেদী হাসান মিরাজ: ১/২৬
শুরুতেই ৬ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। নিশাঙ্কার ৩২ রান ও শানাকার ২০ রান ছাড়া কেউ দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ১৫.২ ওভারে ৯৪ রানেই অলআউট হয় স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা।
মাঠে উৎসব, গ্যালারিতে আবেগ
ডাম্বুলার রনগিরি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর অনেক আগে থেকেই দর্শকের ঢল নামে। টিকিট না পেয়েও অনেকে লোহার বেড়া ডিঙিয়ে প্রবেশ করেন মাঠে। আর তাঁদের উপচে পড়া আবেগ আরও রঙিন করে তোলে বাংলাদেশের জয়।
বাংলাদেশের এই জয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন অধিনায়ক লিটন দাস।
সংক্ষেপে:
- বাংলাদেশ: ১৭৭/৭ (লিটন ৭৬, শামীম ৪৮)
- শ্রীলঙ্কা: ৯৪ (১৫.২ ওভারে অলআউট)
- ফল: বাংলাদেশ জয়ী ৮৩ রানে
- ম্যাচসেরা: লিটন দাস
- সিরিজ অবস্থা: ১–১ সমতা


