পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের সামনে ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী লালচাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান মহিন ও তার সহযোগী তারেক রহমান রবিনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
তাৎক্ষণিক অভিযানে গ্রেপ্তার
ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৯ জুলাই বিকেলে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশের একটি দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকেই মূল অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান মহিনকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে সহযোগী তারেক রহমান রবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের নামও পাওয়া গেছে, যা মামলার তদন্তে সহায়ক হবে।
অপতথ্যের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
ডিএমপি বলছে, “ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা তদন্ত কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া এ ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।” তারা আরও বলেছে, “এ ঘটনায় কারও রাজনৈতিক পরিচয় দেখার সুযোগ নেই—অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
তদন্ত অব্যাহত, অভিযানে গতি
ডিএমপি আশ্বাস দিয়েছে, ঘটনায় জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। তদন্ত দ্রুত ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় নিহত ব্যবসায়ী সোহাগের পরিবার এবং স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রধান দুই আসামি গ্রেপ্তারের মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সংক্ষেপে মূল তথ্য:
- হত্যাকাণ্ড: ৯ জুলাই, মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেট
- নিহত: ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী লালচাঁদ ওরফে সোহাগ
- গ্রেপ্তার: মাহমুদুল হাসান মহিন (ঘটনাস্থলে) ও তারেক রহমান রবিন
- অভিযান: অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান
- ডিএমপি বার্তা: অপপ্রচার বন্ধ ও পুলিশের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ


