বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, “দেশে আর কোনো ফ্যাসিস্ট শাসনের জন্ম হতে দেওয়া হবে না। সংস্কার ছাড়া যেনতেন নির্বাচন আমরা মেনে নেব না। আমাদের সন্তানদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করতে দেব না।”
শনিবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় ফেনী শহরের একটি গণমিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, “সংস্কার কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। ন্যায়ের পক্ষে, জনগণের অধিকারের পক্ষে আমরা আছি। যতদিন ফ্যাসিজমের শেষ চিহ্নটিও বাংলাদেশ থেকে মুছে না যাবে, ততদিন আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরো বলেন, “যদি নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংই হয়, তাহলে এত মানুষ জীবন দিল কেন? আমরা আর কোনো ফ্যাসিস্ট আমলের আদলে নির্বাচন হতে দেব না।”
সন্ধ্যার সুধী সমাবেশের আগে বিকেলে একই স্থানে অনুষ্ঠিত ফেনী জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলনে শফিকুর রহমান পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতি নিয়ে মতামত দেন।
তিনি বলেন, “পিআর পদ্ধতিতে কালো টাকা ও পেশিশক্তির দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে, ফ্যাসিজম তৈরি হবে না। কিন্তু একটি বিশেষ দল থেকে বলা হচ্ছে, পিআর পদ্ধতি হলে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসিত হবে। এটা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না।”
সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের ফেনী জেলার আমির মুফতি আবদুল হান্নান এবং সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবদুর রহীম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
- কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের
- ফেনী-২ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী লিয়াকত আলী ভূঁইয়া
রুকন সম্মেলনে বক্তব্য দেন:
- কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবু তাহের মোহাম্মদ মাছুম
- মুহাম্মদ শাহজাহান
- কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মোহাম্মদ আলাউদ্দিন
- জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আবু ইউসুফ
তারা সবাই শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, “আসন্ন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া যেন তাদের আত্মত্যাগকে অমর করে তোলে, সে লক্ষ্যে সকলকে প্রস্তুত থাকতে হবে।”
জামায়াতের আমিরের এই বক্তব্যে দলের অবস্থান স্পষ্ট—তারা সংস্কারহীন নির্বাচন, ফ্যাসিবাদী রাজনীতি ও তথাকথিত ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ এর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে পিআর পদ্ধতির সম্ভাব্য ইতিবাচক দিক নিয়ে তাদের আগ্রহও প্রতিফলিত হয়েছে, যদিও তা রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত।
এই সমাবেশে বক্তৃতাগুলো রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয় এবং শহীদদের আত্মত্যাগ যেন কোনোভাবেই অপচয় না হয়, সেদিকে দল সচেতন।


