থাইল্যান্ডে তিন বছর আগে এশিয়ায় প্রথমবারের মতো গাঁজা বৈধ করার পর, চলতি সপ্তাহে নতুন কঠোর নিয়ম চালু করেছে দেশটির সরকার। বৃহস্পতিবার থেকে গাঁজা কিনতে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে গাঁজা এখন কেবল চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যগত ব্যবহারের জন্যই অনুমোদিত।
জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী সোমসাক থেপসুটিন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে গাঁজাকে পুনরায় মাদক হিসেবে অপরাধের তালিকায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে থাইল্যান্ডের ‘গ্রীন রাশ’ যুগের অবসান ঘটতে চলেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ হাজারের বেশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত গাঁজা দোকান এখন শুধুমাত্র প্রেসক্রিপশনধারী ক্রেতাকে গাঁজা বিক্রি করতে পারবে। বিক্রয় রেকর্ড রাখতে হবে এবং নিয়মিত তদারকির মুখোমুখি হবে। গাঁজা চাষিদের ক্ষেত্রেও কঠিন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। অনলাইন বা ভেন্ডিং মেশিনের মাধ্যমে বিক্রি, বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনও নিষিদ্ধ।
মেডিক্যাল গাঁজা বৈধ ছিল ২০১৮ সাল থেকে। তবে ২০২২ সালে পূর্ণ বৈধতার পর নিয়ন্ত্রণের ঘাটতিতে দেশজুড়ে বিনোদনমূলক ব্যবহারের ব্যাপক বিস্তার ঘটে। পর্যটন এলাকা, বিশেষ করে ব্যাংককের খাও সান রোড, পাতায়া ও চিয়াং মাইয়ে শত শত গাঁজা ক্যাফে ও ডিসপেনসারি গড়ে ওঠে।
নতুন নিয়মের আওতায় এখন থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটককেও প্রেসক্রিপশন দেখাতে হবে। গাঁজার বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, ফলে গাঁজা-আকৃতির ইনফ্লেটেবল বা সবুজ আলোকসজ্জার সাইনবোর্ডও উঠিয়ে নিতে হবে।
জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘থাইল্যান্ড সংস্কৃতি ও প্রকৃতি উপভোগের দেশ। গাঁজা বিনোদনের জন্য নয়।’
এদিকে, গাঁজা ব্যবসায়ী ও চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকে বলছেন, নতুন নিয়মে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা বিপাকে পড়বে। গাঁজা অ্যাক্টিভিস্ট কিটি চোপাকা জানিয়েছেন, ‘এতে অবৈধ বাজার ও দুর্নীতি বাড়বে, কিন্তু বিনোদনমূলক গাঁজা বন্ধ হবে না।’
২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ৮০০-র বেশি গাঁজা পাচারকারী গ্রেফতার এবং ৯ মেট্রিক টন গাঁজা জব্দ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনটি এখনো সংসদে উঠেনি। তবে সরকার জানিয়েছে, এই বিধিনিষেধ দীর্ঘমেয়াদী নীতিতে রূপ নিতে পারে।


