Saturday, March 7, 2026
No menu items!
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইরানে ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের সূচনা

ইরানে ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের সূচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল। গতকাল শনিবার রাত আটটায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছে। লক্ষ্যবস্তু ছিল ফর্দো, নাতাঞ্জ এবং ইস্পাহান পারমাণবিক স্থাপনা, যার মধ্যে ফর্দোতে সর্বোচ্চ পরিমাণ বোমা ফেলা হয়। এই অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল।

ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “সব উড়োজাহাজ ইরানের আকাশসীমার বাইরে নিরাপদে ফিরেছে” এবং মার্কিন যোদ্ধাদের অভিনন্দন জানান।

ইসরায়েল এই হামলার বিষয়ে আগে থেকেই অবগত ছিল। ট্রাম্পও হামলার আগে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেন। ১৩ জুন ইসরায়েল একতরফাভাবে হামলা শুরু করলে, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে দূরত্ব বজায় রাখে। তবে ইসরায়েলের রাতের সফল হামলার পর ট্রাম্প নিজের ভূমিকার দাবি করেন।

ট্রাম্প নিজে দীর্ঘদিন যুদ্ধবিরোধী অবস্থানে থেকেও শেষপর্যন্ত হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। হোয়াইট হাউসের কিছু উপদেষ্টা তাঁকে হামলা থেকে বিরত রাখতে চাইলেও ট্রাম্প অনড় ছিলেন। তবে তিনি এখনো কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার কথা বলছেন।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ইরানে সরকার পতনের লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে বারবার সতর্ক করেছেন। তবুও, ট্রাম্প পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিতে বলছেন।

এ হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততার সূচনা। এখনো স্পষ্ট নয় এই হামলায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের বাংকার-বাস্টার বোমা ব্যবহার করা হয়েছে।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রিপাবলিকান পার্টিতে ভেতরেও বিভাজন দেখা দিয়েছে। একপক্ষ সরাসরি যুদ্ধ চায় না, আরেকপক্ষ ইরানকে শক্তভাবে মোকাবিলা করার পক্ষে।

২০০১ সালের ইরাক যুদ্ধের সমালোচনার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে এগোনো ট্রাম্প এখন মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অতীতে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার ঘটনাও তাঁর জন্য বড় রাজনৈতিক মুহূর্ত ছিল।

তবে এবার যুদ্ধ নিয়ে সতর্ক ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়ানোর ইচ্ছা তাঁর নেই। কূটনৈতিক সমাধানকেই প্রাধান্য দিতে বলেছেন, যদিও ইরানের পক্ষ থেকে সে আগ্রহ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ইরান যে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেবে, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা। একইসঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল, রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এখন দেখার বিষয় — এই যুদ্ধ কোথায় গিয়ে থামে, নাকি নতুন সংকটের জন্ম দেয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments