নরওয়ের রাজধানী ওসলো এখন ইউরোপের অন্যতম বাসযোগ্য শহর হিসেবে পরিচিত। আর এই আধুনিক, পরিবেশবান্ধব শহরের অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে ভলকান (Vulkan)। মাত্র ২০ বছর আগে যেখানে ছিল পরিত্যক্ত কারখানা ও ধ্বংসস্তূপ, আজ সেখানে গড়ে উঠেছে ইউরোপের অন্যতম স্মার্ট, টেকসই এবং সৃজনশীল মাইক্রো-কমিউনিটি।
আকারে মাত্র ৯,৪০০ বর্গমিটার এই এলাকাটি এখন একটি জীবন্ত নগর গ্রাম। এখানে রয়েছে নরওয়ের প্রথম ফুড হল মাথালেন, দেশের জাতীয় সমসাময়িক নৃত্য থিয়েটার Dansens Hus, সাংস্কৃতিক মঞ্চ Vulkan Arena, ডিজাইন হোটেল Scandic Vulkan, এবং শহরের প্রথম এনার্জি ক্লাস ‘এ’ হোটেল। ভূগর্ভস্থ জিওথার্মাল ওয়েল এবং সোলার প্যানেল দিয়ে এলাকাটি নিজেদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ও উষ্ণতা নিশ্চিত করছে।
এছাড়া পরিবেশ সুরক্ষার অংশ হিসেবে ভলকান অ্যাপিয়ারি প্রকল্প চালু করে ২০১৪ সালে এখানকার মৌমাছি জনগোষ্ঠী পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়।
শুধু ভলকান নয়, গোটা ওসলো শহরই এক পরিবেশবান্ধব শহরের মডেল। শহরের কেন্দ্রস্থলে পেট্রোলচালিত গাড়ি নিষিদ্ধ এবং সমস্ত গণপরিবহন, ট্যাক্সি ও ব্যক্তিগত গাড়ি বৈদ্যুতিক। ফলে ট্রাফিকের কোলাহলবিহীন, পরিচ্ছন্ন ও প্রশান্ত পরিবেশ শহরের নাগরিক ও পর্যটকদের উপভোগ্য করে তুলেছে।
এছাড়া বিয়রভিকা (Bjørvika)-তে ভাসমান উড-সাইড সনা এবং শীতল ফজির জলাধারে স্নান ওসলোবাসীদের এক অনন্য নর্ডিক জীবনপদ্ধতির পরিচয় দেয়।
সব মিলিয়ে, শুধু ভলকান নয়, গোটা ওসলোই আজ কার্বন নিউট্রাল শহর গড়ার লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশাল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ওসলো তাই শুধু ইউরোপ নয়, সারা বিশ্বের টেকসই নগর পরিকল্পনার জন্য এক বাস্তব উদাহরণ।
পর্যটক, বিনিয়োগকারী ও নগর পরিকল্পনাবিদদের কাছে আজ ওসলো আর ভলকান ভবিষ্যতের শহরের এক জীবন্ত প্রমাণ।


