মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে। ইসরাইলের টানা বিমান হামলায় তেহরান এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত। গতকাল (১৮ জুন) রাতভর ইসরাইলের ৫০টি যুদ্ধবিমান রাজধানী তেহরানে অন্তত ২০টি লক্ষ্যবস্তুতে বোমা বর্ষণ করে। এর মধ্যে ইরানের পুলিশ সদর দপ্তরও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানায় ইসরাইল।
এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কঠোর বার্তায় বলেছেন, “আমার ধৈর্যের সীমা শেষ। ইরান এখন পুরোপুরি অরক্ষিত।” তবে তিনি সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে নারাজ।
উল্টো ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান কখনো হুমকির মুখে মাথা নত করবে না। টেলিভিশনে প্রচারিত এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমেরিকার যে কোনো সামরিক আগ্রাসনের ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে।”
এদিকে ইসরাইলি হামলা থেকে বাঁচতে তেহরানের বাসিন্দারা শহর ছেড়ে পালাচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজট। অন্যদিকে ইরানের পাল্টা মিসাইল হামলায় ইসরাইলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দিয়েছে। এতে করে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম এক লাফে ৯% বেড়ে গেছে।
পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, বিশ্লেষকরা বলছেন — এখন আর যুদ্ধের আশঙ্কা নয়, যুদ্ধ কার্যত শুরু হয়ে গেছে। আর তা থামানোর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।
বিশ্ব নেতৃত্বের নীরবতায়, মধ্যপ্রাচ্য আরেকটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের মুখোমুখি বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।


