ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলার নেপথ্যে ছিল মোসাদের দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা পরিকল্পনা ও গোপন অভিযান। সম্প্রতি ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামের এই গোপন অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার অনেক আগে থেকেই তেহরানসহ ইরানের ভেতরে অবস্থান নেয় মোসাদের গুপ্তচররা। তারা ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা শনাক্ত করে, গোপনে অস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি স্থাপন করে এবং দেশের ভেতর থেকে হামলার প্রস্তুতি নেয়। ড্রোন ঘাঁটি থেকে সরাসরি তেহরানের আশপাশের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা যায়, অভিযানের অংশ হিসেবে উচ্চ-নির্ভুল অস্ত্র ইরানে পাচার করা হয়, যা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুখে ব্যবহার করা হয়। এ কারণেই ইসরায়েলি বিমান বাহিনী শুক্রবার ভোরে একযোগে ইরানের সামরিক ঘাঁটি, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।
মোসাদ প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, অপ্রস্তুত অবস্থায় থাকা ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মোসাদের ইরানের ভেতরে গভীর অনুপ্রবেশ ও অপারেশন সক্ষমতার প্রমাণ।
মোসাদের সাবেক উপপ্রধান রাম বেন বারাক জানান, ইরানে জনঅসন্তুষ্টি এবং সরকারের প্রতি অবিশ্বাসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই অভিযান বাস্তবায়ন করা হয়।
এর আগে, গাজা যুদ্ধ চলাকালে তেহরানে বিস্ফোরক পুঁতে রেখে হামাসের রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়াকেও হত্যা করা হয়েছিল। এই ধারাবাহিক অভিযান ইসরায়েলের গোয়েন্দা সক্ষমতার এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অভিযানের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘাত আরও ঘনীভূত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


