দেশের বিচারব্যবস্থার সংস্কার ও মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সহজ করতে তিনটি মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে আইন মন্ত্রণালয়। শনিবার (১৪ জুন) রাজধানীর বেইলি রোডে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার কার্যালয়ে আয়োজিত ‘আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর প্রাথমিক খসড়া নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ
আসিফ নজরুল বলেন, “প্রথম লক্ষ্য, দ্রুত ও স্বল্প খরচে মামলা নিষ্পত্তি। এ জন্য ইতিমধ্যে দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধন করা হয়েছে। দ্রুত ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধনও সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে বছরে গড়ে পাঁচ লাখ মামলা হয়, যার মধ্যে মাত্র ৩৫ হাজার মামলা নিষ্পত্তি হয় সরকারি আইনগত সহায়তার মাধ্যমে। এই সংখ্যা বাড়ানোর জন্য দক্ষ জনবল, অবকাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য, এই মাধ্যমের মাধ্যমে অন্তত এক লাখ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা।
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ডিজিটালাইজেশন
সংস্কারের দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। এ জন্য বিচার বিভাগে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিচারকদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষা মানোন্নয়ন এবং সম্পদের হিসাব নেওয়ার মাধ্যমে বিচার বিভাগকে আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মামলার অভিশাপ থেকে মুক্তি
তৃতীয় লক্ষ্য হিসেবে মামলা দীর্ঘমেয়াদি হওয়া ও নাগরিক ভোগান্তি কমানোর কথা জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, “বিভিন্ন আইন সংস্কারের মাধ্যমে মামলার অভিশাপ থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়ার উদ্যোগ চলছে।” তিনি জানান, আইনি সহায়তার পরিধি বাড়িয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি, বিশেষ করে মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলা সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শেষ কথা
সভায় দেশের বিভিন্ন জেলার আইনজীবী সমিতির নেতা, আইন মন্ত্রণালয় ও আইনগত সহায়তা সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন। বক্তারা আইনি সহায়তা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা কমে মানুষের দ্রুত ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


