মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামে এই অভিযানে প্রায় ২০০টি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান অংশ নেয়।
হামলায় ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল বাঘেরি, ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের প্রধান হোসেইন সালামি এবং বিমানবাহিনীর কমান্ডার আমির আলী হাজিজাদেহসহ অন্তত ২০ জন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের আবাসিক এলাকায় বিস্ফোরণে প্রাণ হারান অন্তত ৭৮ জন সাধারণ নাগরিক। আহত হয়েছেন তিন শতাধিক।
পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে শুক্রবার রাতে ইসরায়েল লক্ষ্য করে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ছুড়েছে ইরান। এতে তেল আবিবে অন্তত ১৫ জন আহত হন। ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন ঠেকাতেই এই অভিযান। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি একে ‘যুদ্ধের ঘোষণা’ বলে অভিহিত করে কঠিন পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইসরায়েলের সেনাপ্রধান জানিয়েছেন, দেশজুড়ে ১০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। হামলার আগে ইসরায়েলের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানত যুক্তরাষ্ট্র, তবে এই হামলায় তাদের সরাসরি অংশগ্রহণ ছিল না বলে জানিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ঘটনার নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘসহ রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, কাতার, ওমান ও জর্ডান। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরান-ইসরায়েল উভয়পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এ উত্তেজনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের বিস্তারে রূপ নিতে পারে, যার পরিণতি হবে ভয়াবহ।


